সিএসইর সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর

পুঁজিবাজার বড় হলে উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে

পুঁজিবাজার সম্প্রসারিত হলে উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইকুইটি অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে, ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন চাহিদা পূরণে একটি কার্যকর বিকল্প উৎস সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

তিনি গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (সিএসই) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব কথা বলেন।

সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, মহাব্যবস্থাপক মোর্তজা আলম ও মোহাম্মদ মনিরুল হকসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বৈঠকে জানান, দেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতের ঋণ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি পর্যায়ক্রমে ১০ শতাংশে উন্নীত হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী, গভীর ও গতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের পরিমাণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২৫ হাজার কোটি ও ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো সম্ভব হলে এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে পুঁজিবাজার বেসরকারি খাতের অর্থায়নের একটি শক্তিশালী উৎস হিসেবে বিকশিত হবে। এতে ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ কমবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত ঋণ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজতর হবে।

গভর্নর আরো উল্লেখ করেন, বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও সিকিউরিটিজ বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজতর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নিটা-সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করেছে। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নিটা হিসাবে জমা হবে এবং অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো প্রযোজ্য মূলধনি মুনাফা কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করবে। এতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরো সহজ, দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে।

আরও